রাবি উপাচার্যের কণ্ঠে স্বৈরাচারের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি: ছাত্রদল সভাপতি

 

রাবি উপাচার্যের কণ্ঠে স্বৈরাচারের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি: ছাত্রদল সভাপতি



ছবি: রাবি প্রতিনিধি মো. নাজমুল হুদার সৌজন্যে

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাবি শাখার সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, “আমরা উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব স্যারের কণ্ঠে স্বৈরাচারী হাসিনার কণ্ঠ শুনতে পাই।” তিনি আরও বলেন, “তিনি বলছেন, গদি টান দিয়ে ফেলা যাবে না—আমরা তাঁকে বলতে চাই, তাঁকে দড়ি দিয়ে টান দেওয়া হবে না, বরং সেই দড়ি দিয়েই তাঁকে বেঁধে রাখা হবে।”

বৈষম্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি” শীর্ষক কর্মসূচিতে এই বক্তব্য দেন তিনি। সমাবেশে ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেন, উপাচার্য ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সুলতান আহমেদ বলেন, “আপনারা রাহীকে নয়, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে অবমাননা করেছেন। ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়—যারা ইট মেরেছেন, তাদের পাটকেল বিএনপির ছাত্রশক্তি বুঝিয়ে দেবে ইনশাআল্লাহ।”

২১ জন শিক্ষককে চিহ্নিত করে ব্যানার টানানো

ছাত্রদল সভাপতি আরও জানান, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষককে “দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাঁদের তালিকা প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এই তালিকা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি জানান। “এই শিক্ষকরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমরা আইন মেনে চলছি বলেই তাঁরা এখনো হাঁটতে পারছেন। কিন্তু আমরা চাই, দ্রুত তাঁদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক,” বলেন তিনি।

সমাবেশ শেষে মিছিল

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল, এবং বক্তব্য দেন সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়, যা প্যারিস রোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যাসিবাদী শিক্ষক চিহ্নিত করার দাবিতে ব্যানার

কর্মসূচির একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, এবং সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হকসহ ২১ জন শিক্ষককে “ফ্যাসিবাদী দোসর” হিসেবে চিহ্নিত করে প্যারিস রোডের সিনেট ভবনের সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে দেন।

এই প্রতিবেদনটি তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক। এটি কপিরাইট মুক্ত ও জনস্বার্থে তৈরি করা হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post